বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা নাম কি?
-
ক
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
খ
কাজী নজরুল ইসলাম
-
গ
শামসুর রহমান
-
ঘ
আল মাহমুদ
আমাদের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটির গীতিকার ও সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধে আন্দোলনের সময় পূর্ব ও পশ্চিমে উভয় বঙ্গকে একত্রিত করার উদ্দেশ্যে এ গানটি রচনা করেন। গানটি ১৯০৫ সালের ৭ আগষ্ট কোলকাতার বিরোধী আন্দোলনের সমাবেশে প্রথম গাওয়া হয়।
আমার সোনার বাংলা হলো বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। বঙ্গমাতা সম্পর্কে এই গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক ১৯০৫ সালে রচিত হয়। বাউল গায়ক গগন হরকরার গান "আমি কোথায় পাব তারে" থেকে এই গানের সুর ও সঙ্গীত উদ্ভূত।
১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই গানটি রচিত হয়েছিলো। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে এ গানটির প্রথম দশ চরণ সদ্যগঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নির্বাচিত হয়। ১৯০৫ সালে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ”বাউল” নামক গ্রন্থে গানটি অন্তর্ভুক্ত আছে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত "আমার সোনার বাংলা" কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেছিলেন। এটি ১৩১১ বঙ্গাব্দে (১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে) লেখা হয়েছিল।
রচনা ও সুরারোপ
আমার সোনার বাংলা গানটি রচিত হয়েছিলো ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে। গানটির পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়নি, তাই এর সঠিক রচনাকাল জানা যায় না।সত্যেন রায়ের রচনা থেকে জানা যায়, ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট কলকাতার টাউন হলে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভায় এই গানটি প্রথম গীত হয়েছিলো। এই বছরই ৭ সেপ্টেম্বর (১৩১২ বঙ্গাব্দের ২২ ভাদ্র) সঞ্জীবনী পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের স্বাক্ষরে গানটি মুদ্রিত হয়। এই বছর বঙ্গদর্শন পত্রিকার আশ্বিন সংখ্যাতেও গানটি মুদ্রিত হয়েছিলো। তবে ৭ আগস্ট উক্ত সভায় এই গানটি গীত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। বিশিষ্ট রবীন্দ্রজীবনীকার প্রশান্তকুমার পালের মতে, আমার সোনার বাংলা ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ আগস্ট কলকাতার টাউন হলে অবস্থা ও ব্যবস্থা প্রবন্ধ পাঠের আসরে প্রথম গীত হয়েছিলো।
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত "আমার সোনার বাংলা" একটি গভীর দেশপ্রেমমূলক গান, যা বাংলা ভাষায় রচিত এবং সংগীতায়িত। এটি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা, যিনি ১৯০৫ সালে বাংলাকে ভেঙে দেওয়ার ব্রিটিশ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় এটি লিখেছিলেন। গানটির প্রথম দশটি লাইন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়।
রচনা ও পটভূমি:
"আমার সোনার বাংলা" গানটি ১৩১১ বঙ্গাব্দে (১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে) রচিত হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গানটি রচনা করেন বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে। বঙ্গভঙ্গ ছিল বাংলার ঐক্য ভেঙে দেওয়ার একটি ব্রিটিশ সিদ্ধান্ত, যা অনেকের কাছে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। এই গানে বাংলাদেশের প্রকৃতি, সৌন্দর্য এবং জনগণের প্রতি অগাধ ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে।
মূল কবিতা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা সম্পূর্ণ আমার সোনার বাংলা গানটি এখানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এই গানের প্রথম দশ চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃত।
আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি॥
ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায় রে—
ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি॥
কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো—
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।
মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো,
মরি হায়, হায় রে—
মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি॥
তোমার এই খেলাঘরে শিশুকাল কাটিলে রে,
তোমারি ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি।
তুই দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী দীপ জ্বালিস ঘরে,
মরি হায়, হায় রে—
তখন খেলাধুলা সকল ফেলে, ও মা, তোমার কোলে ছুটে আসি॥
ধেনু-চরা তোমার মাঠে, পারে যাবার খেয়াঘাটে,
সারা দিন পাখি-ডাকা ছায়ায়-ঢাকা তোমার পল্লীবাটে,
তোমার ধানে-ভরা আঙিনাতে জীবনের দিন কাটে,
মরি হায়, হায় রে—
ও মা, আমার যে ভাই তারা সবাই, ও মা, তোমার রাখাল তোমার চাষি॥
ও মা, তোর চরণেতে দিলেম এই মাথা পেতে—
দে গো তোর পায়ের ধুলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে।
ও মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে,
মরি হায়, হায় রে—
আমি পরের ঘরে কিনব না আর, মা, তোর ভূষণ ব'লে গলার ফাঁসি
গানের প্রথম অংশ:
গানটির প্রথম অংশ হলো—
আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি। চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।

জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ:
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে "আমার সোনার বাংলা" গানটির প্রথম দশটি লাইন জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়।
অর্থ ও প্রভাব:
"আমার সোনার বাংলা" শুধুমাত্র একটি গান নয়, এটি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, এবং স্বাধীনতার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক। গানটি দেশের জনগণকে একত্রিত করে এবং জাতীয় গর্ব ও দেশপ্রেমকে উদ্দীপ্ত করে।
সুর ও প্রভাব:
গানটির সুরও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত। এর সুর অত্যন্ত মৃদু ও মনোরম, যা বাংলাদেশের প্রকৃতি ও আবহাওয়ার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
"আমার সোনার বাংলা" বাংলাদেশের জনগণের জন্য শুধুমাত্র একটি সংগীত নয়, এটি তাদের ঐতিহাসিক সংগ্রাম, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক।
এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত করা নিয়ে বিরোধ ও সমালোচনা
"আমার সোনার বাংলা" বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর কিছু বিরোধ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছিল। যদিও এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় থেকেই জনপ্রিয় ছিল, তবু কিছু বিতর্ক ও সমালোচনা উত্থাপিত হয়েছে, যা মূলত বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এসেছে।
১. ভাষা ও আঞ্চলিকতা:
- ভারতীয় পটভূমি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ভারতীয় এবং তাঁর রচিত গান ভারতের জাতীয় সংগীত 'জন গণ মন'-ও। এ কারণে কিছু লোক মনে করেন যে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত অন্য কোনো স্থানীয় কবির লেখা হওয়া উচিত ছিল।
- আঞ্চলিকতা ও বিকল্প প্রস্তাব: কিছু মানুষ মনে করেন যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানটির বদলে অন্য কোনো কবি বা সাহিত্যিকের গান বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হওয়া উচিত ছিল, যা শুধুমাত্র পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করে।
২. ধর্মীয় মতভেদ:
- ধর্মীয় রীতি: কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠী দাবি করেছেন যে গানটি ইসলামি চেতনার সাথে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তারা মনে করেন, এটি একটি ধর্মনিরপেক্ষ গান যা ইসলামের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
৩. ভিন্নমত ও বিকল্প প্রস্তাব:
- বিকল্প প্রস্তাব: কিছু লোক জাতীয় সংগীত হিসেবে "আমার সোনার বাংলা"-র পরিবর্তে কাজী নজরুল ইসলামের কোনো গান বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, কারণ নজরুল ইসলামের গানগুলো বাংলাদেশি চেতনার সাথে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত বলে মনে করা হয়।
৪. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
- রাজনৈতিক বিরোধ: রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিত্বের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিরোধ দেখা গিয়েছে, যারা রবীন্দ্রনাথের রচিত গানকে নয়, বরং অন্য কোনো গানকে জাতীয় সংগীত হিসেবে বেছে নেওয়ার কথা বলেছেন। এটি বিশেষ করে তখন দেখা দেয়, যখন একটি দল মনে করে যে তাদের আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সম্পূর্ণরূপে গানটির মধ্যে প্রতিফলিত হয়নি।
৫. বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব:
- বঙ্গভঙ্গ ও জাতীয়তাবাদ: "আমার সোনার বাংলা" গানটি বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে রচিত হওয়ায় এটি তখনকার পূর্ববাংলা এবং পশ্চিমবাংলার উভয়কেই সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, কিছু লোক মনে করেন যে গানটি শুধুমাত্র পূর্ববাংলার বা বর্তমান বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে প্রতিফলিত করে না।
সমাধান ও প্রভাব:
এই বিরোধ ও সমালোচনা সত্ত্বেও, "আমার সোনার বাংলা" গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে বহাল থাকে এবং এটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত। অধিকাংশ মানুষ এই গানকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করেছেন এবং এটি বাংলাদেশি পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক হিসেবে স্থান পেয়েছে।
বিবিসির জরিপে (২০০৪) সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় ২য় স্থান প্রাপ্ত নোবেল জয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা, সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, সুরস্রষ্টা, গায়ক, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা, সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ, গ্রামীণ ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের পথিকৃৎ। ১৯৩০ সালে জার্মানিতে আইনস্টাইনের সাথে সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাতে তিনি দর্শন, মানুষ ও বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেন।
রবীন্দ্রনাথের পরিবারটি পিরালি ব্রাহ্মণ [বিধর্মীদের সংস্পর্শে এসে জাত হারানো ব্রাহ্মণরা হলেন পিরালি ব্রাহ্মণ]। (পারিবারিক উপাধি কুশারি)। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্বপুরুষ জগন্নাথ কুশারি পিরালি ব্রাহ্মণ মেয়ে বিয়ে করলে হিন্দু ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয় এবং সমাজচ্যুত করা হয়। তার ছেলে পঞ্চানন কুশারি ১৮ শতকের শুরুতে খুলনার দক্ষিণড়িতি থেকে কলকাতার গোবিন্দপুরে এসে জেলে পাড়ার পুরোহিতের কাজ করা শুরু করেন। ফলে অনেকে ঠাকুর বলে ডাকেন। এছাড়াও ইংরেজদের বাণিজ্য তরীতে দ্রব্য উঠা-নামার কাজ করলে ইংরেজরাও তাকে ঠাকুর বলে ডাকতেন। তারই উত্তর প্রজন্ম দ্বারকানাথ ঠাকুর ইংরেজনে কাছ থেকে অর্থের পাশাপাশি 'প্রিন্স' উপাধি লাভ করেন ক্রমান্বয়ে শত বছরের ব্যবধানে জেলে সম্প্রদায়ের পুরোহিত থেকে কলকাতার প্রভাবশালী পরিবারে পরিণত হয়।
ঠাকুর পরিবারে জমিদারি ছিল বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর ও নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার কালিগ্রাম নামক তিনটি জমিদারি ছিল জোড়াসাঁকোর ঠাকুন পরিবারের। এর মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কালিগ্রাম জমিদারির দায়িত্ব পান। ১৩ জুন, ১৮৯১ সালে তিনি জমিদারি দেখাশোনার জন্য কালিগ্রামে প্রথম আসেন ২৭ জুলাই, ১৯৩৭ সালে তিনি শেষবার কালিগ্রামে আসেন এবং কালিগ্রাম ইউনিয়নের পতিসরে অবস্থিত তার পুত্রের নামে 'কালিগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশন' নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নোবেল পুরস্কারের অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৭ মে, ১৮৬১ সালে (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ বঙ্গাব্দ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয় ১৯৬১ সালে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ: প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর; পিতামহি: দিগম্বরী দেবী; পিতা: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর; মাতা: সারদা দেবী। তিনি পিতা-মাতার ১৫জন সন্তানের মধ্যে ১৪তম সন্তান এবং ৮ম পুত্র। রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ফারসি কবি হাফিজ ও শেখ সাদীর অনুরাগী ছিলেন।
- তিনি ৯ ডিসেম্বর, ১৮৮৩ সালে ঠাকুরবাড়ীর অধস্তন কর্মচারী বেণীমাধব রায় চৌধুরীর কন্যা ভবতারিণী দেবীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর রবীন্দ্রনাথ নাম রাখেন মৃণালিনী দেবী। স্ত্রী ভবতারিণী দেবী খুলনার দক্ষিণডিহি গ্রামের মেয়ে।
- তিনি 'সাধনা' (১৮৯৪), 'ভারতী' (১৮৯৮), 'বঙ্গদর্শন' (১৯০১), 'তত্ত্ববোধিনী' (১৯১১) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- সাহিত্যিক জীবনের শুরুতে তিনি বিহারীলাল চক্রবর্তীর অনুসারী ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর সাহিত্যে মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব পদাবলি, উপনিষদ, দোঁহাবলি, লালনের বাউল গান ও রামপ্রসাদ সেনের শাক্ত পদাবলির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য সংকলনের নাম 'সঞ্চয়িতা'।
- হিন্দু-মুসলমান মিলনের লক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ 'রাখিবন্ধন' উৎসবের সূচনা করেন।
- ব্রিটিশ সরকার ৩ জুন, ১৯১৫ সালে রবীন্দ্রনাথকে 'নাইটহুড' বা 'স্যার' উপাধি প্রদান করেন। পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল, ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তা বর্জন করেন।
- তিনি ৭ আগস্ট, ১৯৪১ সালে (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৯টি ছদ্মনাম পাওয়া যায়। যথাঃ ভানুসিংহ ঠাকুর, অকপট চন্দ্র ভাস্কর, আন্নাকালী পাকড়াশী, ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, বানীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ, শ্রীমতি কনিষ্ঠা, শ্রীমতি মধ্যমা, দিকশূন্য ভট্টাচার্য, নবীন কিশোর শর্মন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদক:
ডি. লিট- ১৯১৩ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট- ১৯৩৫ (কাশী বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট- ১৯৩৬ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট- ১৯৪০ (অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপাধি:
গুরুদেব- মহাত্মা গান্ধী, কবিগুরু- ক্ষিতিমোহন সেন, বিশ্বকবি- ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়।
ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতন (বোলপুরে)। পরবর্তীতে এটি ১৯২১ সালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়' এ রূপান্তরিত হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত রচনাবলি: | |
| প্রথম প্রকাশিত কবিতা | 'হিন্দু মেলার উপহার' (২৫/০২/১৮৭৪): তাঁর মাত্র ১৩ বছর বয়সে কবিতাটি অমৃতবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয় [সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান।] 'অভিলাষ' (১৮৭৪): এটি প্রকাশিত হয় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকায় (সূত্র: বাংলাপিডিয়া)। তিনি মাত্র ৮ বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করেছিলেন। |
| প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ | 'কবি-কাহিনী' (১৮৭৮), এটি তাঁর ১৭ বছর বয়সে প্রকাশিত হয়। এ কাব্যের কবিতাগুলি 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। |
| প্রথম অপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ | 'পৃথ্বীরাজের পরাজয়'। ১২৭৯ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে রবীন্দ্রনাথ তাঁর বাবার সাথে বোলপুর-শান্তিনিকেতনে যান এবং সেখানেই বীররসাত্মক এ কাব্য রচনা করেন। এ কাব্যটি সম্পর্কে তাঁর 'জীবনস্মৃতি'তে বিস্তারিত পাওয়া যায়। |
| প্রথম প্রকাশিত কবিতার লাইন | মীনগণ দীন হয়ে ছিল সরোবরে / এখন তাহারা সুখে জলে ক্রীড়া করে। |
| প্রথম প্রকাশিত নাটক | 'বাল্মীকি প্রতিভা' (১৮৮১), এটি তাঁর গীতিনাট্য। অধিকাংশের মতে, রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত নাটক 'রূদ্রচণ্ড' (১৮৮১)। কিন্তু 'রূদ্রচণ্ড' নাটক নয়, নাটিকা। রবীন্দ্রনাথ নিজেই বাল্মীকির ভূমিকায় অভিনয় করেন। |
| প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস | 'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' (১৮৮৩), এটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। উৎসর্গ করেন সৌদামিনী দেবীকে। |
| প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প | 'ভিখারিণী' (১৮৭৭) |
| প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ | 'বিবিধপ্রসঙ্গ' (১৮৮৩) |
| প্রথম প্রকাশিত রচনা সংকলন | 'চয়নিকা' (১৯০৯) |
| প্রথম সম্পাদিত পত্রিকা | 'সাধনা' (১৮৯৪) |
| সর্বশেষ প্রকাশিত ছোটগল্প | 'ল্যাবরেটরী' (১৯৪০) |
| সর্বশেষ রচিত গল্প | 'মুসলমানীর গল্প' |
বনফুল:
'বনফুল' (১৮৮০): এটি রবীন্দ্রনাথ রচিত প্রথম সম্পূর্ণ কাব্য। কিন্তু প্রকাশের দিক দিয়ে দ্বিতীয়। গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হওয়ার ৪ বছর পূর্বে অর্থাৎ ১৫ বছর বয়সে রচনা করেন। এ কাব্যের কবিতাগুলি ১৮৭৬ সালেই 'জ্ঞানাঙ্কুর' ও 'প্রতিবিম্ব' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৮৮০ সালে। তাই 'বনফুল'কে প্রথম কাব্যগ্রন্থ বলা যায় না। যদিও অনেকে এটিকে প্রথম কাব্যগ্রন্থ বলে থাকেন কিন্তু তা সঠিক নয়। ৮টি সর্গে বিভক্ত এ কাব্যের কবিতায় বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
- 'গীতাঞ্জলি' কাব্য ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় ।
- গীতাঞ্জলির অনুবাদ Song Offerings নামে ১৯১২ সালে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার পাননি। তিনি ১৯১৩ সালের নভেম্বর মাসে নোবেল পুরস্কার পান 'গীতাঞ্জলি'র ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings এর জন্য। নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির সময় তাঁর বয়স ছিল ৫২ বছর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম ভারতীয় এবং সাহিত্যে একমাত্র নোবেলজয়ী বাঙালি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল চুরি হয়ে যায় শান্তি নিকেতন থেকে ২৪ মার্চ, ২০০৪ সালে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট কাব্যগ্রন্থ ৫৬টি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট নাটক ২৯টি, কাব্যনাট্য ১৯টি।
- বাংলা ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথের মোট ছোটগল্প ১১৯টি।
- রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ গ্রন্থঃ
'কালান্তর' (১৯৩৭): এটি ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন।
'পঞ্চভূত' (১৮৯৭): এ প্রবন্ধগুলি 'সাধনা' পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়রি' নামে প্রকাশিত হতো। পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো 'লেখক ভূতনাথ বাবু'।
'বিচিত্রপ্রবন্ধ' (১৯০৭): এ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধ 'লাইব্রেরি'। 'বিবিধ প্রসঙ্গ' (১৮৮৩), 'সাহিত্য' (১৯০৭), 'শিক্ষা' (১৯০৮), 'মানুষের ধর্ম - রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণকাহিনিঃ
'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র (১৮৮১): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত ভ্রমণকাহিনি। এটি চলিত ভাষায় লিখিত।
'য়ুরোপ প্রবাসীর ডায়রি' (১৮৯১), 'জাভা যাত্রীর পর (১৯২৯), 'জাপান যাত্রী' (১৯১৯), 'রাশিয়ার চিটিং (১৯৩১), 'পারস্যে' (১৯৩৬)। - রবীন্দ্রনাথের ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা গ্রন্থের নাম 'শব্দতত্ত্ব' (১৯০৯)।
- রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থের নাম 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)। এটি সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে উৎসর্গ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের পত্র সংকলনগুলোঃ
'ছিন্নপত্র' (১৯১২): এতে মোট ১৫১টি পত্র আছে। এর প্রথম ৮টি পত্র শ্রীশচন্দ্র মজুমদারকে এবং ১৪৩টি স ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা।
'ভানুসিংহের পত্রাবলী': এটি রানু অধিকারীকে লেখেন।
'পথে ও পথের প্রান্তে': নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লেখা । - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রকলাঃ
৭০ বছর বয়সের পর তিনি ছবি আঁকা শুরু করেন। তার অঙ্কিত ছবি ও স্কেচের সংখ্যা প্রায় ২০০০টি। নিজের আর ছবিগুলোকে তিনি 'শেষ বয়সের প্রিয়া' বলে আখ্যায়িত করেছেন। - রবীন্দ্রনাথের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নামঃ 'জীবনস্মৃতি' (১৯১২): এতে রবীন্দ্রনাথের বাল্যকাল থেকে পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত সময়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। 'চরিত্রপূজা' (১৯০৭), 'ছেলেবেলা' (১৯৪০)।
- রবীন্দ্রনাথের সনেট জাতীয় রচনা বাংলার মাটি বাংলার জল।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
Related Question
View All-
ক
হৈমন্তী
-
খ
চারুলতা
-
গ
রায়
-
ঘ
আশালতা
-
ক
হাছন রাজা
-
খ
লালন শাহ
-
গ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
ঘ
কাজী নজরুল ইসলাম
-
ক
শান্তি
-
খ
ছুটি
-
গ
ফটিক
-
ঘ
মহেশ
-
ক
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
-
খ
প্রমথ চৌধুরী
-
গ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
ঘ
টেকচাঁদ ঠাকুর
-
ক
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
খ
দীনবন্ধু মিত্র
-
গ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
ঘ
প্যারীচাঁদ মিত্র
-
ক
বঙ্গসুন্দরী
-
খ
সেঁজুতি
-
গ
প্রেম ও ফুল
-
ঘ
শেষের কবিতা
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন